সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঔষধ বিক্রি করে অবৈধ ভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ট্যাপেন্টাডল মুক্তারের বিরুদ্ধে। ট্যাপেন্টাডল মুক্তার তার ফার্মেসীর আড়ালে দু’জন সহযোগীর মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত নেশা জাতীয় সিরাপ-ঔষধ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক ক্রয়-বিক্রয় ও সেবন নিষিদ্ধ ঘোষিত এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ উল্লেখিত নেশাজাতদ্রব্য বিক্রি করে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক বুনে গেছেন অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, ট্যাপেন্টাডল মুক্তারের অপ্রতিরোধ্য ও একচ্ছত্র অবৈধ অর্থের কারণে এলাকাবাসী অসহায় এবং তাদের উঠতি বয়সের কোমলমতি ছাত্রছাত্রী, ছেলেমেয়ে, কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে চরম আতঙ্কিত বলে জানা গেছে। প্রকাশ্যে দিবালোকে নেশা করে মেয়েদের ইভটিজিং করা, সন্ধ্যার পর চুরি-ছিনতাই বেড়ে যাওয়াসহ আরো গুরুতর সব অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিমধ্যে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জেলা র্যাব অধিনায়ক এবং পুলিশ সুপার বরাবর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। সে সকল অভিযোগের কপি ইতিমধ্যেই টাইমস অব ক্যাম্পাস-এর হাতে এসেছে। এসব সুনির্দিষ্টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধানে নামে আমাদের টাইমস অব ক্যাম্পাস-এর অনুসন্ধানী টিম। অনুসন্ধানে ট্যাপেন্টাডল মুক্তারের বিষয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং চমকপ্রদ বেশকিছু তথ্য উঠে আসে আমাদের অনুসন্ধানী দলের হাতে। কে এই প্যান্টাডল মুক্তার! যিনি ফার্মেসী ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘ তিন-চার বছর ধরে পরিচালনা করে আসছেন মাদক ব্যবসা!
অনুসন্ধানে জানা যায়, বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান হাবীব মুক্তার ওরফে ট্যাপেনন্টাডল মুক্তার উপজেলার ইসলামপুর এলাকার রঘুশাহর দীঘিরপাড় নামক বাজারে শিহাব মেডিকেল স্টোরের আড়ালে নিষিদ্ধ ঘোষিত সিরাপ ও নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য বিক্রি করে অল্প সময়ের মধ্যেই অর্থের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। সে ইসলামপুর খানাবাড়ীর মৃত আহাদ আলীর ছেলে।
এদিকে, আমাদের অনুসন্ধান চলাকালে ২৮ অক্টোবর (মঙ্গলবার) বিকালে ফুটপাত ও রাস্তার পাশে দোকান বসিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করার অপরাধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে দুপচাঁচিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মি.তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়।
এসময়, দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন আঃলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিহাব মেডিকেল স্টোরের সত্ত্বাধিকারী ইসলামপুর খানাবাড়ীর মুক্তার হোসেন এর দোকান থেকে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সিরাপ, ট্যাবলেট ও ঔষধ রাখার অপরাধে ১৫ হাজার টাকা ভ্রাম্যমান আদালত জরিমানা করে বলে জানা গেছে।
এছাড়াও, উপজেলার রাস্তার পাশে তুলনামূলক ভাবে অবৈধ দোকান করার কারণে তাদের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকা, দুপচাঁচিয়া আরাফাত হোটেলের ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হবার কারণে ৪০ হাজার টাকা এবং একটি মুরগির দোকান থেকে ২৫ হাজার টাকা সহ সর্বমোট ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক নগদে জরিমানা আদায় করার খবর পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে দুপচাঁচিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক থেকে জানা যায়- “মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ রাখায় শিহাব ফার্মেসীর ১৫ হাজার হাজার টাকা জরিমানা!” বিষয়টি নিয়ে কথা হয় ইসলামপুর বাসীর সাথে। তারা জানান- “মুক্তার নেশার সিরাপ বিক্রি করে এডা হামাকেরে এটকার ব্যাবাকেই জানে। সন্ধ্যার পরথিনি মুক্তারের ব্যবসা জমজমাট। তার দু’জন সহযোগীর মাধ্যমে নেশার ওষধ বিক্রি করে এটাও সবাই জানে বলেও স্থানীয়রা জানান। একন (এখন) ডেট পার হওয়া (মেয়াদোত্তীর্ণ) ওষুদ (ঔষধ) প্যালো (পেল) নাকি নেশার ওষুদ প্যালো সেডা (সেটা) হামরা (আমরা) কওয়া (কইতে/বলতে) পারমু (পারবো) না। ট্যাপেন্টাডলের পরিবর্তে এলাকাবাসী তাকে প্যান্টাডল মুক্তার বলেই ডাকে- বলে জানা যায়।
৩-৪ চার বছর আগেও মুক্তারের তেমন কোন সম্পদ ছিলো না বলে জানান স্থানীয়রা। দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেয়ার ফার্মেসী দিয়ে তার আড়ালে গড়ে তোলেন নেশার-মাদকের ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট। সে বর্তমানে শুধু বাড়ি নির্মাণেই প্রায় চল্লিশ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন বলে এলাকাবাসী জানান
এ সকল অভিযোগের সত্যতার বিষয়ে জানতে ইসলামপুরস্থ রঘুশাহর দীঘির পাড় বাজারে গিয়েও শিহাব মেডিকেল স্টোরের সত্ত্বাধিকারী মি.আহসান হাবীব মুক্তারের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
তার সকল সম্পদের বিবরণী সহ আরও চমকপ্রদ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে চোখ খোলা রাখুন।
(চলবে)
✪ বিশেষ প্রতিবেদক: 









