১২:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশজুড়ে ২ দিনের ‘সারপ্রাইজ’ অভিযান

  • ✪ ধ্রুব নয়ন
  • সময় ১২:১০:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০৮ ভিউ হয়েছে

​আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিরাপত্তার চাদর গড়ে তোলা হচ্ছে। ভোটের মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আগামীকাল রোববার থেকে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন শুরু হবে। এরই অংশ হিসেবে সন্ত্রাস দমনে যে কোনো মুহূর্তে দেশব্যাপী একযোগে দুই দিনের বিশেষ ‘সারপ্রাইজ’ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

​মাঠে নামছে সকল বাহিনী, লক্ষ্য অবাধ নির্বাচন
​পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে যাবেন। গত ১৯ জুলাই থেকে সেনাবাহিনী সারা দেশে মোতায়েন থাকলেও এবার তাদের সাথে যুক্ত হচ্ছে নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব, কোস্ট গার্ড ও আনসার বাহিনী।

​নির্বাচনকালীন সহিংসতা রোধে সরকারের পক্ষ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, “নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। এ বিষয়ে প্রতিটি বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

​অস্ত্র ও সন্ত্রাসী ধরতে ‘সারপ্রাইজ’ অভিযান
​নির্বাচনের পরিবেশ কলুষিত করতে পারে এমন অপরাধীদের দমনে এক অভিনব কৌশল নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। দেশব্যাপী একই সময়ে দুই দিনব্যাপী এই ‘সারপ্রাইজ’ অভিযান চালানো হবে। তবে অভিযানের নির্দিষ্ট দিন-ক্ষণ গোপন রাখা হয়েছে।

​অভিযানের মূল লক্ষ্য:
​চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার। ​অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ীদের আটক। ​নির্বাচনী কেন্দ্রে দখল বা পেশিশক্তি ব্যবহারের ঝুঁকি নির্মূল করা।

​গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, এই আকস্মিক অভিযানের ফলে অপরাধী চক্র কোনো ধরনের প্রস্তুতির সুযোগ পাবে না, যা ভোটারদের মনে স্বস্তি ফেরাবে।

​শীর্ষ কর্মকর্তাদের মাঠ পরিদর্শন ও দিক-নির্দেশনা
​নির্বাচনী প্রস্তুতি পর্যালোচনায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ইতিমধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন সেনানিবাস ও পদাতিক ডিভিশন পরিদর্শন করেছেন। তিনি বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে আন্তঃপ্রতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাহিনীকে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

​অন্যদিকে, উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান চরাঞ্চল ও উপকূলীয় কন্টিনজেন্টগুলোর প্রস্তুতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন। বিজিবি, র‍্যাব ও আনসার বাহিনীও তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে মাঠে থাকছে।

​বিশ্লেষকদের অভিমত
​বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন ও গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের মধ্যে একদিকে যেমন ভোটের আমেজ কাজ করছে, অন্যদিকে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও রয়েছে গভীর উদ্বেগ। টাইমস অব ক্যাম্পাসের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই ব্যাপক তৎপরতা ও সারপ্রাইজ অভিযানের পরিকল্পনা মূলত জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি বড় প্রয়াস।

Tag :

ড. ইউনুস সহ সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে আইনি নোটিশ

দেশজুড়ে ২ দিনের ‘সারপ্রাইজ’ অভিযান

সময় ১২:১০:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

​আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিরাপত্তার চাদর গড়ে তোলা হচ্ছে। ভোটের মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আগামীকাল রোববার থেকে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন শুরু হবে। এরই অংশ হিসেবে সন্ত্রাস দমনে যে কোনো মুহূর্তে দেশব্যাপী একযোগে দুই দিনের বিশেষ ‘সারপ্রাইজ’ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

​মাঠে নামছে সকল বাহিনী, লক্ষ্য অবাধ নির্বাচন
​পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে যাবেন। গত ১৯ জুলাই থেকে সেনাবাহিনী সারা দেশে মোতায়েন থাকলেও এবার তাদের সাথে যুক্ত হচ্ছে নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব, কোস্ট গার্ড ও আনসার বাহিনী।

​নির্বাচনকালীন সহিংসতা রোধে সরকারের পক্ষ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, “নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। এ বিষয়ে প্রতিটি বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

​অস্ত্র ও সন্ত্রাসী ধরতে ‘সারপ্রাইজ’ অভিযান
​নির্বাচনের পরিবেশ কলুষিত করতে পারে এমন অপরাধীদের দমনে এক অভিনব কৌশল নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। দেশব্যাপী একই সময়ে দুই দিনব্যাপী এই ‘সারপ্রাইজ’ অভিযান চালানো হবে। তবে অভিযানের নির্দিষ্ট দিন-ক্ষণ গোপন রাখা হয়েছে।

​অভিযানের মূল লক্ষ্য:
​চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার। ​অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ীদের আটক। ​নির্বাচনী কেন্দ্রে দখল বা পেশিশক্তি ব্যবহারের ঝুঁকি নির্মূল করা।

​গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, এই আকস্মিক অভিযানের ফলে অপরাধী চক্র কোনো ধরনের প্রস্তুতির সুযোগ পাবে না, যা ভোটারদের মনে স্বস্তি ফেরাবে।

​শীর্ষ কর্মকর্তাদের মাঠ পরিদর্শন ও দিক-নির্দেশনা
​নির্বাচনী প্রস্তুতি পর্যালোচনায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ইতিমধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন সেনানিবাস ও পদাতিক ডিভিশন পরিদর্শন করেছেন। তিনি বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে আন্তঃপ্রতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাহিনীকে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

​অন্যদিকে, উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান চরাঞ্চল ও উপকূলীয় কন্টিনজেন্টগুলোর প্রস্তুতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন। বিজিবি, র‍্যাব ও আনসার বাহিনীও তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে মাঠে থাকছে।

​বিশ্লেষকদের অভিমত
​বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন ও গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের মধ্যে একদিকে যেমন ভোটের আমেজ কাজ করছে, অন্যদিকে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়েও রয়েছে গভীর উদ্বেগ। টাইমস অব ক্যাম্পাসের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই ব্যাপক তৎপরতা ও সারপ্রাইজ অভিযানের পরিকল্পনা মূলত জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি বড় প্রয়াস।