✪নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ‘জরিনা রহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে’র কম্পিউটার ল্যাবটি যেন কেবল নামেই আছে। দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে থাকা এই ল্যাব এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের অদক্ষতা নিয়ে সম্প্রতি রাজশাহী অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) উপ-পরিচালকের তদন্তে উঠে এসেছে বিস্ময়কর সব তথ্য।
ঘটনার সূত্রপাত ও তদন্তের ফলাফল
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে গত মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন মাউশির উপ-পরিচালক আব্দুর রশিদ। তদন্ত চলাকালীন তিনি কম্পিউটার ল্যাব পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন, ১১টি কম্পিউটারের মধ্যে ৬টিই অকেজো। বাকি ৫টি চলনসই হলেও সেখানে কোনো নিয়মিত কার্যক্রম নেই।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় ঘটে যখন তদন্তকারী কর্মকর্তা কম্পিউটার শিক্ষিকা হাসিনা হোসেনকে একটি কাজ করতে বলেন। শিক্ষিকা অকপটে স্বীকার করেন যে, তিনি কম্পিউটার চালাতেই জানেন না। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক তিরস্কার করেন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে আগামী সাত দিনের মধ্যে সরেজমিনে ক্লাস পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রভাব ও নিয়োগ জালিয়াতি
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০২ সালে হাসিনা হোসেন যখন নিয়োগ পান, তখন তার সনদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল ম্যানেজিং কমিটি। অভিযোগ রয়েছে, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সংগৃহীত ভুয়া সনদের মাধ্যমে তিনি আবেদন করেছিলেন। তবে তার স্বামী (সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা) এবং ভাসুর (সাবেক পৌর মেয়র)-এর রাজনৈতিক প্রভাবে তৎকালীন কমিটিকে তাকে নিয়োগ দিতে বাধ্য করা হয়।
বিদ্যালয়ের বেহাল দশা
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান:
- হাসিনা হোসেন নিজে ক্লাস না নিয়ে তার পরিবর্তে একজন কম্পোজ ব্যবসায়ীকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতেন।
- সহকর্মী শিক্ষকদের অভিযোগ, তিনি ক্লাসে না গিয়ে প্রায়ই লাইব্রেরি কক্ষে ঘুমিয়ে সময় কাটাতেন। এমনকি অনেকদিন অনুপস্থিত থেকে একদিনে সব হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
- প্রধান শিক্ষক শওকত আলী নিজেও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত এবং প্রভাবশালী নেতাদের ম্যানেজ করতে ওই শিক্ষিকাকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে আসতেন।
অভিযুক্তের বক্তব্য
নিজের অদক্ষতা প্রসঙ্গে শিক্ষিকা হাসিনা হোসেন বলেন, “নিয়োগের সময় কাজ জানতাম, তবে বর্তমানের কম্পিউটার অনেক আপডেট হওয়ায় এখন আর বুঝতে পারছি না।” অন্যদিকে, এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক শওকত আলীকে ফোন করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
প্রশাসনের ভূমিকা
ভাঙ্গুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুজ্জামান জানান, উপ-পরিচালক স্যারের নির্দেশে ল্যাবের অব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার অদক্ষতার বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
Reporter Name 









