✪ গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জমা দেওয়া হলফনামায় আয়ের এক নতুন চমক দেখিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। পেশায় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত নুরের বার্ষিক আয় এখন দেশের অনেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার চেয়েও বেশি। নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তিনি বার্ষিক আয়ের দৌড়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকেও পেছনে ফেলেছেন।
আয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, নুরুল হক নুরের বর্তমান বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার ৪৮ টাকা। এর মধ্যে বড় একটি অংশ (১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৬ টাকা) আসে তার ব্যবসা থেকে এবং বাকি ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৬২২ টাকা অন্যান্য উৎস থেকে আয় করেন তিনি। অন্যদিকে, বিএনপির তারেক রহমানের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা এবং জামায়াতের ডা. শফিকুর রহমানের বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এমনকি তরুণ রাজনীতিক নাহিদ ইসলামের বার্ষিক ১৬ লাখ টাকার আয়ের চেয়েও নুরের আয় কয়েক ধাপ এগিয়ে।
সম্পদ ও দায়-দেনার হিসাব
আয়ের হিসেবে নুর সবার শীর্ষে থাকলেও মোট সম্পদের বিচারে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন তারেক রহমান (১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা) ও ডা. শফিকুর রহমান (১ কোটি ২ লাখ টাকা)। নুরের মোট সম্পদের পরিমাণ ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪১ টাকা। নুরের ব্যক্তিগত সম্পদের মধ্যে নগদ রয়েছে ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ২১৭ টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৩১৩ টাকা। এছাড়াও কোম্পানিতে তার বিনিয়োগ ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত মোটা অংকের আমানত রয়েছে। নুরের মালিকানায় ৮২ ডেসিমেল জমি থাকলেও তার স্ত্রী মারিয়া আক্তারের নামে রয়েছে ৩ একর কৃষিজমি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নুরের প্রায় ৪ লাখ টাকা দেনা থাকলেও কোনো ব্যাংক ঋণ নেই।
পারিবারিক ও রাজনৈতিক অবস্থান
ব্যক্তিগত জীবনে তিন সন্তানের জনক নুরের ওপর তার মা-বাবা ও ভাই-বোন নির্ভরশীল। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ৬টি মামলা চলমান থাকলেও এর আগে তিনি ৮টি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। এবার তিনি পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জোটগত সমঝোতায় বিএনপি এখানে প্রার্থী না দিলেও সাবেক বিএনপি নেতা হাসান মামুন স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনী মাঠে আছেন।
ভোটের নির্ঘণ্ট
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীরা ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।
Reporter Name 









