আজ সত্যি কথা কেউ বলে না।
সৎ পথে বেশিরভাগ মানুষই হাটে না।
সত্যের পথে চললে মানুষের দুর্ভোগ হয়, এইটাই বর্তমান সময়ের বাস্তব সত্যি কথা।
নারীর জীবনের কিছু কথা—-
কখনো বাঁচার আশা- কখনো মনে নিরাশা-
কখনো মনে আনন্দের রোদ্দুর, কখনো নারীর বাস্তবতার সাথে লড়াই বা সংঘর্ষ।
কখনো কিছু হারিয়ে কিছু পাওয়ার আশা- এই টাই নারীদের জীবনের কিছু কিছু বাস্তব কথা।
আমরা নারীরা যুগ যুগ ধরে লড়াই করে আসছি-
আমাদের জীবন কাহিনী একেক জনের একেক রকমের, এমন কাহিনী বহু যুগ ধরে চলছে তো চলছেই আজকের সময়ে আরো ভয়াবহ। মানুষ যত শিক্ষিত হচ্ছে যত বৈজ্ঞানিক উন্নতি হচ্ছে এই উন্নতির সাথে সাথে নানারকমের নারী নির্যাতনের পদ্ধতির ও বর্ধিত হচ্ছে। নারীদের এই নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।
সেই সত্য যুগ থেকেই শুরু নারী নির্যাতন-
সত্য যুগে অহল্যা প্রতারিত হয়েছিল- ইন্দ্রদেবের কাছে অহল্যার স্বামী রূপ ধারণ করে সুন্দরী অহল্যা কে ধর্ষন করেছিলেন স্বয়ং ইন্দ্রদেব।
তার স্বামী নদী থেকে স্নান সেরে ফিরে এসে অহল্যা কে ডাকেন অহল্যা ঘর থেকে বেরিয়ে হতবাক্
অহল্যা বলে আপনি ? স্বামী জিজ্ঞেস করেন কেন তুমি এমন অবাক হলে বুঝতে পারছি না আমি তো তোমারই স্বামী!
অহল্যা বলেন না না সে কি করে হয়, আপনি তো আগেই এসে খাওয়া দাওয়া শেষে এই ঘরেই তো আমরা শুয়ে ছিলাম! কি? কি ? বললে শুয়ে ছিলে?
অহল্যা তুমি কুলটা নারী-তুমি ব্যভিচারী নারী, অহল্যা জানতে চান কেন কেন স্বামী ? আমি কী দোষ করলাম! স্বামী অহল্যার কোন কথা ভ্রুক্ষেপই না করে- স্ত্রী কে ভয়ংকর অভিশাপ দিলেন-তোমায় আর আমি গ্রহণ করতে পারবো না।
—– এই মুহূর্তে তুমি পাথর হয়ে যাবে- তোমার মুক্তি ত্রেতা যুগে— শ্রী রাম চন্দ্রের পদ স্পর্শে হবে অহল্যা তো হতবাক বাক রুদ্ধ–অহল্যা বিনা দোষে স্বামীর কাছে অবহেলিত অপমানিত হলেন।
এমনই আমাদের নারী জীবন।
আবার ত্রেতা যুগেও সেই- এক-ই কাহিনী–
শ্রী রাম চন্দ্র তাঁর স্ত্রী সীতা কে বিনা দোষে- প্রজাদের কথায়-অন্তসত্যা স্ত্রী কে বনবাসে– পাঠালেন বিনা বিচার করে–
কারণ সীতা নাকি সন্তান সম্ভবা অন্যের দ্বারা- এ যে কত বড় অপরাধ স্বয়ং ঈশ্বর হয়েও–
নারীর সাথে এতো বড় অন্যায়–
কী ভাবে করলেন ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে! রাম চন্দ্র যদি প্রজাদের কথায় সীতা কে নিয়ে নিজেও বনবাসে যেতেন- তা হলে অন্যায়ের বিরোধিতা করা হতো—
তবে কী রাজ সিংহাসনের লোভে উনি এই জঘন্য কাজ করেছিলেন-কারণ রাম চন্দ্রের আরো তো তিন ভাই ছিল-
শ্রী রাম চন্দ্র তাদের এক জন কে অনাআসেই রাজ সিংহাসনের অধিকার দিয়ে শ্রী রাম চন্দ্র সীতা কে নিয়ে বনবাসে কেন গেলেন না? এমন জঘন্য কাজ সত্যি কী উঁনি সিংহাসনের লোভেই করেছেন ?
ভাবলে মন খারাপ হয়ে যায়।
এমনই তো নারী জীবন কাহিনী যুগ যুগ ধরে চলছে তো চলছেই—–
বর্তমান সময়ে তো- এই নারী নির্যাতনের কাহিনীর সীমারেখে নেই-অহরহ নারী পদে পদে নির্যাতিত পর নির্যাতিত নিপীড়িত- ধর্ষিত ও জীবন্ত নারী কে পুড়িয়ে মেরে উল্লসিত বোধ করছে- ছিঃ ছিঃ ছিঃ
এ কী নির্মম অত্যাচার অবিচার—?
বর্তমান সমাজে নারীরা বড়ই অসহায় বিশেষ করে অশিক্ষিত নারী।
তবে এই ভয়াবহ অবস্থার পরিবর্তন হবেই হবে নিশ্চয়ই- হে পুরুষ সচেতন হওয়ার সময় আসছে তোমাদের- তোমরা কী ভেবেছো নারী চিরকাল তোমাদের হুকুমের তাবেদারী করেই যাবে—
নারীরা এখন অনেক অনেক এগিয়ে আসছে-
এই নারীরাই দুর্বল নারীদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে- দুর্বল নারীদের মনে স্বপ্ন বুনে দেবে-নিজের দায়িত্বে কিছু করার ও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর যোগ্য করে তুলবে নানা বিধ কর্মে যেমন সেলাই – মুরগীর পোলট্রি-
মসরুমের চাষ পদ্ধতির শিক্ষা প্রদান করে–!
নারীদের নিজের পায়ে দাড়িয়ে অর্থ উপার্জন করে নিজের পরিবার কে তুলে ধরবে-আর পুরুষের হাতের পুতুল নাচ নাচতে হবে না তো-? নারীদের যে উপার্জন ক্ষমতা হয়েছে- অর্থের অভাব দূর হলে সব কিছুই স্বাভাবিক ভাবেই চলবে ঘরে শান্তির আবির্ভাব হবে সকলেই সুখে সংসার করবে-!
নারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে অসভ্য সমাজকে সুশিক্ষিত করবে শুধু মাত্র তাই নয় এই নারীকে পুরুষেরা এক দিন সমীহ করে চলবে। তবে আমার উপলব্ধি বলে- না পুরুষ কোন সম্পর্ক ভুলতে পারে- না নারী পারে ভুলতে এইটাই বাস্তব সত্যি-!
এই নারীই হবে এক দিন সর্বেসর্বা আর নারী কে অত্যাচারিত হতে হবে না- এই টাই ‘ ‘নারীর বিশ্বাস ও প্রত্যয় ‘।।
Reporter Name 











