০৫:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​’শৈত্যের কবলে’ -কিশোয়ার জাহান পুতুল

  • Reporter Name
  • সময় ০১:০৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৭ ভিউ হয়েছে

​প্রকৃতিতে হিম নামছে আজ পাল্লা দিয়ে ভাই,

কনকনে এই ঠান্ডাতে আর স্বস্তি খুঁজে নাই।

জমেছে আজ হৃদস্পন্দন, শৈত্য প্রবল অতি,

দুঃসহ এক যন্ত্রণাতে জীবনের আজ ক্ষতি।

​উত্তুরে ওই হিমেল হাওয়া বইছে তুষার কণা,

শৈত্য প্রবাহে দেশটা যেন বরফ দিয়ে বোনা।

ঘন কুয়াশার চাদর ঢেকেছে সবুজ বন আর মাঠ,

পাখিরা ভয়ে ঝোপের কোণে নিয়েছে যে আজ পাঠ।

বাবুই পাখি পাতার ফাঁকে কাঁপছে শীতের ত্রাসে,

গরিব মানুষ রাত কাটায় ওই খোলা আকাশের পাশে।

​মাথার ওপর চাল নেই যাদের, পথের ধারেই ঘর,

উষ্ণতা আজ অমিল তাদের, সবাই যে আজ পর।

একটু খানি আগুন জ্বেলে শীত তাড়ানোর আশা,

ছেঁড়া কাঁথাতেই রাত কাটে আজ—নেই যে ভালোবাসা।

কম্বল বা শীতবস্ত্র জোটে না যাদের গায়ে,

সূর্য ওঠার প্রতীক্ষাতে রাত কাটে হায় পায়ে।

​আলোর দেখা নেই যে কোথাও, অস্থির জনপদ,

খেটে খাওয়া মানুষের কপালে কেবলই বিপদ।

পেটের দায়ে কুয়াশা মাখা পথে নামে যে জন,

পৌষ-মাঘের হিমের সাথে যুদ্ধ করে মন।

এক মুঠো ভাতের তরে দিনমজুরের লড়াই,

শীতের দাপটে থেমেছে আজ সব যে বাহাদুরি।

​কৃষক নামে আপন মাঠে সোনার ফসল বোনার তরে,

কাঁপন দেহেও শ্রম দিয়ে যায় হাসিমুখে দিনভরে।

ঠান্ডাতে সব শরীর কাঁপে, দাপট লাগামহীন,

জড়োসড়ো জীবন ওদের কাটছে বড় দীন।

​ইট-পাথরের দেয়াল ঘেরা অট্টালিকার যারা,

লেপ-কম্বলের উষ্ণ সুখে ঘরটি তাদের ভরা।

আরাম-আয়েশ বিলাসে কাটে সময় তাদের যত,

গরিবের এই দুঃখ কজন বোঝে অবিরত?

কবির কলম লিখছে কথা অবহেলার ওই তলে,

ঝালমুড়ি খায় সবাই মিলে সেই কাগজের ঠোঙা বলে।

​কবির ভাবনা নীরবে কাঁদে আপন মনের কোণে,

দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে, স্বপ্ন কেউ কি বোনে?

বছর শেষে বছর আসে, দিন বদলে যায় সময়,

গরিবের এই ভাগ্যটা ভাই—বদল কেন হয় না হায়!

ড. ইউনুস সহ সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে আইনি নোটিশ

​’শৈত্যের কবলে’ -কিশোয়ার জাহান পুতুল

সময় ০১:০৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

​প্রকৃতিতে হিম নামছে আজ পাল্লা দিয়ে ভাই,

কনকনে এই ঠান্ডাতে আর স্বস্তি খুঁজে নাই।

জমেছে আজ হৃদস্পন্দন, শৈত্য প্রবল অতি,

দুঃসহ এক যন্ত্রণাতে জীবনের আজ ক্ষতি।

​উত্তুরে ওই হিমেল হাওয়া বইছে তুষার কণা,

শৈত্য প্রবাহে দেশটা যেন বরফ দিয়ে বোনা।

ঘন কুয়াশার চাদর ঢেকেছে সবুজ বন আর মাঠ,

পাখিরা ভয়ে ঝোপের কোণে নিয়েছে যে আজ পাঠ।

বাবুই পাখি পাতার ফাঁকে কাঁপছে শীতের ত্রাসে,

গরিব মানুষ রাত কাটায় ওই খোলা আকাশের পাশে।

​মাথার ওপর চাল নেই যাদের, পথের ধারেই ঘর,

উষ্ণতা আজ অমিল তাদের, সবাই যে আজ পর।

একটু খানি আগুন জ্বেলে শীত তাড়ানোর আশা,

ছেঁড়া কাঁথাতেই রাত কাটে আজ—নেই যে ভালোবাসা।

কম্বল বা শীতবস্ত্র জোটে না যাদের গায়ে,

সূর্য ওঠার প্রতীক্ষাতে রাত কাটে হায় পায়ে।

​আলোর দেখা নেই যে কোথাও, অস্থির জনপদ,

খেটে খাওয়া মানুষের কপালে কেবলই বিপদ।

পেটের দায়ে কুয়াশা মাখা পথে নামে যে জন,

পৌষ-মাঘের হিমের সাথে যুদ্ধ করে মন।

এক মুঠো ভাতের তরে দিনমজুরের লড়াই,

শীতের দাপটে থেমেছে আজ সব যে বাহাদুরি।

​কৃষক নামে আপন মাঠে সোনার ফসল বোনার তরে,

কাঁপন দেহেও শ্রম দিয়ে যায় হাসিমুখে দিনভরে।

ঠান্ডাতে সব শরীর কাঁপে, দাপট লাগামহীন,

জড়োসড়ো জীবন ওদের কাটছে বড় দীন।

​ইট-পাথরের দেয়াল ঘেরা অট্টালিকার যারা,

লেপ-কম্বলের উষ্ণ সুখে ঘরটি তাদের ভরা।

আরাম-আয়েশ বিলাসে কাটে সময় তাদের যত,

গরিবের এই দুঃখ কজন বোঝে অবিরত?

কবির কলম লিখছে কথা অবহেলার ওই তলে,

ঝালমুড়ি খায় সবাই মিলে সেই কাগজের ঠোঙা বলে।

​কবির ভাবনা নীরবে কাঁদে আপন মনের কোণে,

দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে, স্বপ্ন কেউ কি বোনে?

বছর শেষে বছর আসে, দিন বদলে যায় সময়,

গরিবের এই ভাগ্যটা ভাই—বদল কেন হয় না হায়!