✪ টাইমস অব ক্যাম্পাস প্রতিবেদক:
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনঃশিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করার একটি সরকারি প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চারজন প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক সূত্র জানায়, প্রকল্পে ১ হাজার ৩৫৬ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থী দেখানো হলেও রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণে বাস্তবে পাওয়া গেছে মাত্র ১১ জন। অথচ এ বিষয়ে কোনো আপত্তি না তুলে সংশ্লিষ্ট ইন্ডিপেনডেন্ট ভেরিফিকেশন এজেন্সি (আইভিএ) কমিটি প্রকল্পের কার্যক্রম ‘সন্তোষজনক’ উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করে।
গত ১৭ ডিসেম্বর দুদকের নওগাঁ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক আল মামুন মামলাটি দায়ের করেন। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
যাদের বিরুদ্ধে মামলা
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও কালাই উপজেলার সাবেক ইউএনও টুকটুক তালুকদার, নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) ও সাবেক ইউএনও জান্নাত আরা তিথি, নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও সাবেক ইউএনও আবুল হায়াত এবং কালাই উপজেলার সাবেক ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান। তারা সবাই আইভিএ কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন।
এ ছাড়া মামলায় আসামি করা হয়েছে— সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস (এসডিএস) এর নির্বাহী পরিচালক মোছা. আয়েশা আক্তার, ‘এসো গড়ি, সোনার বাংলা’ এনজিওর নির্বাহী পরিচালক গাউসুল আজম, সাবেক উপজেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোখছেদ আলীসহ আইভিএ কমিটির একাধিক সদস্যকে।
অনিয়মের ধরন
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এর সাব-কম্পোনেন্ট ২.৫ প্রকল্পে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ব্যাপক অনিয়ম সংঘটিত হয়।
প্রকৃত ঝরে পড়া ও বিদ্যালয়-বহির্ভূত শিক্ষার্থী যাচাই না করেই ১ হাজার ৬৫৭ জন ভুয়া শিক্ষার্থী দেখানো হয়। তাদের দেখিয়ে কালাই উপজেলায় ৫৫টি ভুয়া উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক বিদ্যালয় বা শিখনকেন্দ্র স্থাপনের কাগজপত্র তৈরি করা হয়।
কত টাকা আত্মসাৎ
দুদক জানায়, ভুয়া শিক্ষার্থী ও শিখনকেন্দ্র দেখিয়ে শিক্ষক বেতন, প্রশিক্ষণ ব্যয়, শিক্ষার্থীদের পোশাক ও স্কুল ব্যাগ, কেন্দ্র পরিচালনা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে মোট ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪৩২ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
যাচাই ছাড়াই বিল অনুমোদন
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিধি অনুযায়ী প্রতিটি শিখনকেন্দ্র, শিক্ষক, শিক্ষা উপকরণ ও ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর মাঠ পর্যায়ের ভ্যালিডেশন বাধ্যতামূলক হলেও আইভিএ কমিটি তা করেনি। সভাপতির প্রত্যয়ন ছাড়াই শিক্ষার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয় এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা যাচাই না করেই প্রকল্পের কার্যক্রম সন্তোষজনক মর্মে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সরকারি অর্থ ছাড় করা হয়।
অভিযুক্তদের বক্তব্য:
অভিযোগের বিষয়ে টুকটুক তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, “আমার স্বাক্ষরে কোনো অর্থ ছাড় হয়নি। আমি শুধু মনিটরিং টিমে ছিলাম।”
শামিমা আক্তার জাহান বলেন, “আমি যোগ দেওয়ার আগেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে। আগের ইউএনওর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কেবল সমাপনী প্রত্যয়নে স্বাক্ষর করেছি।”
জান্নাত আরা তিথি জানান, তিনি মামলার বিষয়ে অবগত নন।
অপর আসামি আবুল হায়াতের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Reporter Name 









