জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির নোয়াখালী জেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দলে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অস্থিরতা। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাতে নতুন কমিটি প্রকাশের পর থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ৩১ জন নেতা একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদ্য ঘোষিত সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন আরাফাত, যিনি প্রথমেই ফেসবুকে নিজের পদত্যাগপত্র প্রকাশ করেন।
মঙ্গলবার রাতে সংগঠনটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ৪১ সদস্যের কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে নাম আসে নুর আলমের, আর সদস্যসচিব হিসেবে থাকেন শিহাব উদ্দিন। তবে কমিটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় পদত্যাগের ঝড়।
জেলা পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, কমিটি গঠনে কেন্দ্রীয় প্রভাব ও লবিংয়ের প্রভাব বেশি থাকায় তৃণমূলের পরিশ্রমী নেতারা বঞ্চিত হয়েছেন। ফলে একে একে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্যসচিব, মুখ্য সংগঠকসহ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নেতাই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
পদত্যাগকারীরা অভিযোগ করেন, “মাঠের কর্মীরা উপেক্ষিত থেকে কেন্দ্রীয় পছন্দের কিছু ব্যক্তিকে কমিটিতে বসানো হয়েছে। এতে প্রকৃত ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।”
ইয়াছিন আরাফাত বলেন, “আমরা যারা বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে এসেছি, আজ তারাই বৈষম্যের শিকার। আদর্শের সঙ্গে আপস না করতেই আমরা পদত্যাগ করেছি। এই কমিটি টিকবে না—এটা সময়ই প্রমাণ করবে।”
তিনি আরও জানান, “৪১ সদস্যের মধ্যে ইতিমধ্যে ২৩ জন আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধা ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা রয়েছেন। আমরা শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে এই কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করব।”
কেন্দ্রীয় যুবশক্তির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “কমিটি ঘোষণার আগে সাক্ষাৎকার নেওয়া হলেও চূড়ান্ত তালিকা সেই অনুযায়ী হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পর্যালোচনা চলছে।”
✪ নোয়াখালী প্রতিনিধি: 









