০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রেম যখন অন্ধ প্রতিশোধে পরিণত হয়, তখন বিচারকের ঘরও নিরাপদ থাকে না।”

পরকীয়ার বলি জজপুত্র!

রাজশাহীতে বিচারকের বাসায় রক্তাক্ত ট্র্যাজেডি এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি- পরকীয়া প্রেম, লেনদেন, অবহেলা, ঘৃণা, প্রতিশোধ এবং মর্মান্তিক মৃত্যু!

রাজশাহীর ডাবতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ঘটে গেছে রীতিমতো সিনেমার মতো ভয়াবহ ঘটনা। মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুর রহমানের একমাত্র ছেলে তাওসিফ রহমান সুমন (১৮) ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসি।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে স্পার্ক ভিউ নামের ১০তলা ভবনের ৫ম তলার ফ্ল্যাটে—যেখানে বিচারক পরিবারসহ ভাড়া থাকতেন।

বাসায় ঢুকে হামলা; পরকীয়া প্রেমের গল্পের ভয়ঙ্কর পরিণতি!

পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পর ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয় লিমন মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে।
তিনি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদোনের পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। একসময় সেনাবাহিনীতে সিপাহী পদে ছিলেন, পরে চাকরিচ্যুত হন।

পুলিশের ধারণা, লিমনের সঙ্গে বিচারকের স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই এই হত্যার নেপথ্যে! প্রেম, প্রতারণা, প্রতিশোধ এই সব কিছুর মিশেলে যেন এক ভয়ংকর নাটকীয়তা।

সাত দিনের আগেই হুমকির জিডি!

জানা গেছে, বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসি ৬ নভেম্বর রাজশাহীর জালালাবাদ থানায় লিমনের বিরুদ্ধে জিডি করেছিলেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন- “লিমন নামের এক ব্যক্তি আমাকে ও আমার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। সে যেকোনো সময় আমাদের ক্ষতি করতে পারে।” আর সেই হুমকির সাত দিনের মাথায়ই ঘটে গেল রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ড!

‘কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন’ থেকে শুরু প্রেম, শেষ হলো রক্তে!

তাসমিন নাহার ও লিমনের পরিচয় হয়েছিল কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন-এর মাধ্যমে। সেখান থেকেই তাদের দীর্ঘ সাত বছরের সম্পর্ক। যা পরে রূপ নেয় অস্বাভাবিক নির্ভরশীলতা ও মানসিক আসক্তিতে।

তাসমিনের আর্থিক সহায়তায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল লিমন। যখন সহায়তা বন্ধ হয়, তখন শুরু হয় হুমকি, ব্ল্যাকমেইল ও ভয়ভীতি।

জিডিতেই তিনি লিখেছিলেন- “লিমন আমার মেয়ের ম্যাসেঞ্জারে কল করে প্রাণে মারার হুমকি দিয়েছে।”

“ভালোবাসা থেকে ঘৃণা, ঘৃণা থেকে হত্যাকাণ্ড”

সিলেটের জালালাবাদ থানায় লিমন আটক হয়ে জানিয়েছিল- তাসমিন নাহারের সঙ্গে তার দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এক মাস ধরে মনোমালিন্য চলছিল।
তাসমিন সিলেটে মেয়ের বাসায় গেলে লিমনও সেখানে হাজির হয় এবং স্থানীয়দের হাতে গণধোলাই খায়। সেখান থেকেই এই সম্পর্কের মোড় নেয় ভয়াবহ পরিণতির দিকে।

পুলিশের ভাষ্য: “ব্যক্তিগত শত্রুতাই মূল কারণ”

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ডিসি গাজিউর রহমান বলেন- “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে এই হামলা। লিমন আগে থেকেই তাসমিন নাহারের পরিচিত ছিলেন। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন।”

হত্যাকাণ্ডের সময় বিচারক বাসায় ছিলেন না।
তাসমিন নাহারের আর্তচিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন।

তাওসিফকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
তার বয়স মাত্র ১৮। রাজশাহীর গভ. ল্যাবরেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র।

মানসিক ভারসাম্যহীনতা, না কি সুপরিকল্পিত প্রতিশোধ?

লিমনের বাবা এইচএম সোলায়মান শাহিদ দাবি করেছেন— “আমার ছেলে একসময় সেনাবাহিনীতে ছিল, কিন্তু মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।
ঢাকায় চিকিৎসা শেষে রাজশাহীতে ফিরেছিল, কিন্তু কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখত না।”

তবে পুলিশ বলছে, এটি মানসিক রোগীর কাজ নয়, বরং “অস্বীকৃত প্রেমের প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড।”

তদন্তে নতুন রহস্যের ইঙ্গিত

সিলেট ও রাজশাহী- দুই থানার তদন্তেই উঠে আসছে আরও জটিল তথ্য। কে কাকে ভালোবাসত, কে কাকে প্রতারণা করল, আর কার প্রেমের বলি হলো বিচারকের ছেলেটি! এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন- “ঘটনার রহস্য উদঘাটনে একাধিক টিম কাজ করছে। হামলাকারী ও ভুক্তভোগী দুজনের মধ্যকার পুরনো সম্পর্কই এর সূত্রপাত বলে ধারণা।”

এক ঝলকে ট্র্যাজেডি

নিহত: তাওসিফ রহমান সুমন (১৮), বিচারকের ছেলে।
আহত: তাসমিন নাহার লুসি, বিচারকের স্ত্রী।
ঘাতক : মো. লিমন মিয়া (৩৫), সাবেক সেনাসদস্য।
সম্পর্ক: কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে পরিচয়, প্রেম, প্রতারণা: প্রতিশোধ
স্থান: রাজশাহী, ডাবতলা, স্পার্ক ভিউ ভবন
তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫।

শেষ কথা:
এক প্রাক্তন সেনাসদস্যের অপূর্ণ প্রেম, এক বিচারকের স্ত্রীর অস্বীকার, আর এক নিরপরাধ কিশোরের মৃত্যু—
সব মিলিয়ে এটি এক “ভালোবাসার নামে ভয়ঙ্কর রক্তগাথা।”

যার শেষ লাইনটিও যেন বলে দেয়- “প্রেম যখন অন্ধ প্রতিশোধে পরিণত হয়, তখন বিচারকের ঘরও নিরাপদ থাকে না।”

ড. ইউনুস সহ সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে আইনি নোটিশ

প্রেম যখন অন্ধ প্রতিশোধে পরিণত হয়, তখন বিচারকের ঘরও নিরাপদ থাকে না।”

পরকীয়ার বলি জজপুত্র!

সময় ০৫:০২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫

রাজশাহীতে বিচারকের বাসায় রক্তাক্ত ট্র্যাজেডি এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি- পরকীয়া প্রেম, লেনদেন, অবহেলা, ঘৃণা, প্রতিশোধ এবং মর্মান্তিক মৃত্যু!

রাজশাহীর ডাবতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ঘটে গেছে রীতিমতো সিনেমার মতো ভয়াবহ ঘটনা। মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুর রহমানের একমাত্র ছেলে তাওসিফ রহমান সুমন (১৮) ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসি।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে স্পার্ক ভিউ নামের ১০তলা ভবনের ৫ম তলার ফ্ল্যাটে—যেখানে বিচারক পরিবারসহ ভাড়া থাকতেন।

বাসায় ঢুকে হামলা; পরকীয়া প্রেমের গল্পের ভয়ঙ্কর পরিণতি!

পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পর ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয় লিমন মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে।
তিনি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদোনের পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। একসময় সেনাবাহিনীতে সিপাহী পদে ছিলেন, পরে চাকরিচ্যুত হন।

পুলিশের ধারণা, লিমনের সঙ্গে বিচারকের স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই এই হত্যার নেপথ্যে! প্রেম, প্রতারণা, প্রতিশোধ এই সব কিছুর মিশেলে যেন এক ভয়ংকর নাটকীয়তা।

সাত দিনের আগেই হুমকির জিডি!

জানা গেছে, বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসি ৬ নভেম্বর রাজশাহীর জালালাবাদ থানায় লিমনের বিরুদ্ধে জিডি করেছিলেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন- “লিমন নামের এক ব্যক্তি আমাকে ও আমার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। সে যেকোনো সময় আমাদের ক্ষতি করতে পারে।” আর সেই হুমকির সাত দিনের মাথায়ই ঘটে গেল রক্তাক্ত হত্যাকাণ্ড!

‘কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন’ থেকে শুরু প্রেম, শেষ হলো রক্তে!

তাসমিন নাহার ও লিমনের পরিচয় হয়েছিল কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন-এর মাধ্যমে। সেখান থেকেই তাদের দীর্ঘ সাত বছরের সম্পর্ক। যা পরে রূপ নেয় অস্বাভাবিক নির্ভরশীলতা ও মানসিক আসক্তিতে।

তাসমিনের আর্থিক সহায়তায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল লিমন। যখন সহায়তা বন্ধ হয়, তখন শুরু হয় হুমকি, ব্ল্যাকমেইল ও ভয়ভীতি।

জিডিতেই তিনি লিখেছিলেন- “লিমন আমার মেয়ের ম্যাসেঞ্জারে কল করে প্রাণে মারার হুমকি দিয়েছে।”

“ভালোবাসা থেকে ঘৃণা, ঘৃণা থেকে হত্যাকাণ্ড”

সিলেটের জালালাবাদ থানায় লিমন আটক হয়ে জানিয়েছিল- তাসমিন নাহারের সঙ্গে তার দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এক মাস ধরে মনোমালিন্য চলছিল।
তাসমিন সিলেটে মেয়ের বাসায় গেলে লিমনও সেখানে হাজির হয় এবং স্থানীয়দের হাতে গণধোলাই খায়। সেখান থেকেই এই সম্পর্কের মোড় নেয় ভয়াবহ পরিণতির দিকে।

পুলিশের ভাষ্য: “ব্যক্তিগত শত্রুতাই মূল কারণ”

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ডিসি গাজিউর রহমান বলেন- “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জেরে এই হামলা। লিমন আগে থেকেই তাসমিন নাহারের পরিচিত ছিলেন। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন।”

হত্যাকাণ্ডের সময় বিচারক বাসায় ছিলেন না।
তাসমিন নাহারের আর্তচিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন।

তাওসিফকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
তার বয়স মাত্র ১৮। রাজশাহীর গভ. ল্যাবরেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র।

মানসিক ভারসাম্যহীনতা, না কি সুপরিকল্পিত প্রতিশোধ?

লিমনের বাবা এইচএম সোলায়মান শাহিদ দাবি করেছেন— “আমার ছেলে একসময় সেনাবাহিনীতে ছিল, কিন্তু মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।
ঢাকায় চিকিৎসা শেষে রাজশাহীতে ফিরেছিল, কিন্তু কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখত না।”

তবে পুলিশ বলছে, এটি মানসিক রোগীর কাজ নয়, বরং “অস্বীকৃত প্রেমের প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড।”

তদন্তে নতুন রহস্যের ইঙ্গিত

সিলেট ও রাজশাহী- দুই থানার তদন্তেই উঠে আসছে আরও জটিল তথ্য। কে কাকে ভালোবাসত, কে কাকে প্রতারণা করল, আর কার প্রেমের বলি হলো বিচারকের ছেলেটি! এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন- “ঘটনার রহস্য উদঘাটনে একাধিক টিম কাজ করছে। হামলাকারী ও ভুক্তভোগী দুজনের মধ্যকার পুরনো সম্পর্কই এর সূত্রপাত বলে ধারণা।”

এক ঝলকে ট্র্যাজেডি

নিহত: তাওসিফ রহমান সুমন (১৮), বিচারকের ছেলে।
আহত: তাসমিন নাহার লুসি, বিচারকের স্ত্রী।
ঘাতক : মো. লিমন মিয়া (৩৫), সাবেক সেনাসদস্য।
সম্পর্ক: কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে পরিচয়, প্রেম, প্রতারণা: প্রতিশোধ
স্থান: রাজশাহী, ডাবতলা, স্পার্ক ভিউ ভবন
তারিখ: বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫।

শেষ কথা:
এক প্রাক্তন সেনাসদস্যের অপূর্ণ প্রেম, এক বিচারকের স্ত্রীর অস্বীকার, আর এক নিরপরাধ কিশোরের মৃত্যু—
সব মিলিয়ে এটি এক “ভালোবাসার নামে ভয়ঙ্কর রক্তগাথা।”

যার শেষ লাইনটিও যেন বলে দেয়- “প্রেম যখন অন্ধ প্রতিশোধে পরিণত হয়, তখন বিচারকের ঘরও নিরাপদ থাকে না।”