০১:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
চরমানিকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আলী মিয়ার ছেলে সিরাজুল ইসলাম নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে আসছেন। যদিও বর্তমানে চরফ্যাশনে বিএনপির কোনো সক্রিয় কমিটি নেই

চরফ্যাশনে শিক্ষাক্ষেত্রে বড় জালিয়াতির অভিযোগ

ভোলার চরফ্যাশনে ভুয়া শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে কলেজের সভাপতি হওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ আইচা কলেজের (সাবেক অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম কলেজ) এডহক কমিটির সভাপতি ও দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির নেতা মো. সিরাজুল ইসলাম সবুজ খাঁনের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চরমানিকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আলী মিয়ার ছেলে সিরাজুল ইসলাম নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে আসছেন। যদিও বর্তমানে চরফ্যাশনে বিএনপির কোনো সক্রিয় কমিটি নেই।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে বি.বি.এ (সম্মান) ও এম.বি.এ ডিগ্রি অর্জনের দাবি করে সংশ্লিষ্ট সার্টিফিকেট কলেজে জমা দেন। সেই সনদের ভিত্তিতেই তিনি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি পদে অনুমোদন পান। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের যাচাইয়ে দেখা যায়—উক্ত দুটি সনদই ভুয়া।

গত ১ নভেম্বর দক্ষিণ আইচা রাব্বানীয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল বশার হেলালি বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিতভাবে সনদ যাচাইয়ের আবেদন করেন। পরে ৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. একেএম শামসুর রহমান প্রতিবেদনে জানান—সনদে ক্রমিক নম্বর নেই, কোর্স কোডে অমিল, ভাইস চ্যান্সেলরের স্বাক্ষর জাল এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরের তারিখেও গরমিল পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে উভয় সনদকে “ভুয়া” হিসেবে উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

এ খবর জানাজানি হতেই কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

রাব্বানীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল বশার হেলালি বলেন, “ভুয়া সনদে কেউ যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব নেয়, সেটা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।”

অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহিবুল্লাহ জানান, “চলতি বছরের ২০ এপ্রিল সিরাজুল ইসলাম সভাপতি পদে আবেদন করেন। অনুমোদনের পর দায়িত্ব নেন। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম সবুজ খাঁন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মিথ্যা প্রচার করছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি পরিষ্কার করব।”

ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চরফ্যাশন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর একেএম আবুল খায়ের বলেন, “ভুয়া সনদ ব্যবহার করে কেউ কলেজ সভাপতির পদে থাকতে পারেন না। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসনা শারমিন মিথি বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদন যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

টাইমস অব ক্যাম্পাস প্রতিবেদকের মন্তব্য:
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে ভুয়া সনদধারীর অবস্থান কেবল নৈতিক পতন নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ভয়াবহ বার্তা। কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপই পারে এমন অনৈতিক চর্চা বন্ধ করতে।

ড. ইউনুস সহ সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে আইনি নোটিশ

চরমানিকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আলী মিয়ার ছেলে সিরাজুল ইসলাম নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে আসছেন। যদিও বর্তমানে চরফ্যাশনে বিএনপির কোনো সক্রিয় কমিটি নেই

চরফ্যাশনে শিক্ষাক্ষেত্রে বড় জালিয়াতির অভিযোগ

সময় ০৫:১৭:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

ভোলার চরফ্যাশনে ভুয়া শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে কলেজের সভাপতি হওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে দক্ষিণ আইচা কলেজের (সাবেক অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম কলেজ) এডহক কমিটির সভাপতি ও দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির নেতা মো. সিরাজুল ইসলাম সবুজ খাঁনের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চরমানিকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আলী মিয়ার ছেলে সিরাজুল ইসলাম নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে আসছেন। যদিও বর্তমানে চরফ্যাশনে বিএনপির কোনো সক্রিয় কমিটি নেই।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে বি.বি.এ (সম্মান) ও এম.বি.এ ডিগ্রি অর্জনের দাবি করে সংশ্লিষ্ট সার্টিফিকেট কলেজে জমা দেন। সেই সনদের ভিত্তিতেই তিনি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি পদে অনুমোদন পান। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের যাচাইয়ে দেখা যায়—উক্ত দুটি সনদই ভুয়া।

গত ১ নভেম্বর দক্ষিণ আইচা রাব্বানীয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল বশার হেলালি বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিতভাবে সনদ যাচাইয়ের আবেদন করেন। পরে ৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. একেএম শামসুর রহমান প্রতিবেদনে জানান—সনদে ক্রমিক নম্বর নেই, কোর্স কোডে অমিল, ভাইস চ্যান্সেলরের স্বাক্ষর জাল এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরের তারিখেও গরমিল পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে উভয় সনদকে “ভুয়া” হিসেবে উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

এ খবর জানাজানি হতেই কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

রাব্বানীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল বশার হেলালি বলেন, “ভুয়া সনদে কেউ যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব নেয়, সেটা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।”

অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহিবুল্লাহ জানান, “চলতি বছরের ২০ এপ্রিল সিরাজুল ইসলাম সভাপতি পদে আবেদন করেন। অনুমোদনের পর দায়িত্ব নেন। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম সবুজ খাঁন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মিথ্যা প্রচার করছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি পরিষ্কার করব।”

ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিসে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চরফ্যাশন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর একেএম আবুল খায়ের বলেন, “ভুয়া সনদ ব্যবহার করে কেউ কলেজ সভাপতির পদে থাকতে পারেন না। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসনা শারমিন মিথি বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদন যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

টাইমস অব ক্যাম্পাস প্রতিবেদকের মন্তব্য:
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে ভুয়া সনদধারীর অবস্থান কেবল নৈতিক পতন নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ভয়াবহ বার্তা। কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপই পারে এমন অনৈতিক চর্চা বন্ধ করতে।