০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকদের মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটা, রোববার থেকে কর্মবিরতির ডাক

  • ✪ ধ্রুব নয়ন :
  • সময় ০৩:০৭:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ৭২ ভিউ হয়েছে

মানুষ গড়ার কারিগররা আজ রাস্তায়, হাতে ব্যানার নয়—আহত সহকর্মীর রক্ত। তিন দফা দাবিতে ঢাকায় শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। কিন্তু শাহবাগ মোড়ে হঠাৎই নামল লাঠির ঝড়, গরম পানির জলকামান আর কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়া।

শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া সেই মিছিল পুলিশি হামলায় পরিণত হলে মুহূর্তেই ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন শিক্ষকরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কোনো উসকানি ছাড়াই পুলিশ লাঠিপেটা ও জলকামান ব্যবহার করে। অপরদিকে পুলিশের দাবি, শিক্ষকরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনমুখী মিছিলের চেষ্টা করায় তাঁদের থামানো হয়।

হামলায় শতাধিক শিক্ষক আহত হন বলে অভিযোগ। আহতদের অনেকে চিকিৎসা নিয়েছেন স্থানীয় হাসপাতালে। এছাড়াও কয়েকজন শিক্ষককে আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা। 

 আটক এবং হামলার ঘটনার পর সন্ধ্যায় ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর আহ্বায়ক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ ঘোষণা দেন— “শিক্ষকদের ওপর অন্যায় হামলার প্রতিবাদে আমরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব, এবং দেশব্যাপী আগামীকাল রোববার (৯ নভেম্বর) থেকে  পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করব।”

তিন দফা দাবির মধ্যে মূল বিষয়গুলো

১️. বেতন গ্রেড ১৩ থেকে ১০-এ উন্নীতকরণ

২. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি বাস্তবায়ন

৩. চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের বিধান

এর আগে একই দাবিতে আন্দোলনকারীরা ১১তম গ্রেড দাবি করলেও এখন তাঁরা সমমর্যাদা ও ন্যায্যতা দাবি করে ১০ম গ্রেডের দাবিতে অনড় রয়েছেন।

সরকারি সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ইতিমধ্যে ১১ থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। এই রায় কার্যকর হলে সারা দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেই সুবিধা পাবেন।

অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষকদের দাবিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে মাঠপর্যায়ে শিক্ষকদের ক্ষোভ এখন চরমে— “আমরা যাঁরা আগামী প্রজন্ম গড়ি, আজ আমাদের রক্তে রঙিন হলো রাজধানীর রাস্তাঘাট,” বললেন আহত এক শিক্ষক, চোখে জল, কণ্ঠে প্রতিবাদের আগুন।

ড. ইউনুস সহ সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে আইনি নোটিশ

শিক্ষকদের মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটা, রোববার থেকে কর্মবিরতির ডাক

সময় ০৩:০৭:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

মানুষ গড়ার কারিগররা আজ রাস্তায়, হাতে ব্যানার নয়—আহত সহকর্মীর রক্ত। তিন দফা দাবিতে ঢাকায় শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। কিন্তু শাহবাগ মোড়ে হঠাৎই নামল লাঠির ঝড়, গরম পানির জলকামান আর কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়া।

শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া সেই মিছিল পুলিশি হামলায় পরিণত হলে মুহূর্তেই ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন শিক্ষকরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কোনো উসকানি ছাড়াই পুলিশ লাঠিপেটা ও জলকামান ব্যবহার করে। অপরদিকে পুলিশের দাবি, শিক্ষকরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনমুখী মিছিলের চেষ্টা করায় তাঁদের থামানো হয়।

হামলায় শতাধিক শিক্ষক আহত হন বলে অভিযোগ। আহতদের অনেকে চিকিৎসা নিয়েছেন স্থানীয় হাসপাতালে। এছাড়াও কয়েকজন শিক্ষককে আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা। 

 আটক এবং হামলার ঘটনার পর সন্ধ্যায় ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর আহ্বায়ক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ ঘোষণা দেন— “শিক্ষকদের ওপর অন্যায় হামলার প্রতিবাদে আমরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব, এবং দেশব্যাপী আগামীকাল রোববার (৯ নভেম্বর) থেকে  পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করব।”

তিন দফা দাবির মধ্যে মূল বিষয়গুলো

১️. বেতন গ্রেড ১৩ থেকে ১০-এ উন্নীতকরণ

২. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি বাস্তবায়ন

৩. চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের বিধান

এর আগে একই দাবিতে আন্দোলনকারীরা ১১তম গ্রেড দাবি করলেও এখন তাঁরা সমমর্যাদা ও ন্যায্যতা দাবি করে ১০ম গ্রেডের দাবিতে অনড় রয়েছেন।

সরকারি সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ইতিমধ্যে ১১ থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। এই রায় কার্যকর হলে সারা দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেই সুবিধা পাবেন।

অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষকদের দাবিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে মাঠপর্যায়ে শিক্ষকদের ক্ষোভ এখন চরমে— “আমরা যাঁরা আগামী প্রজন্ম গড়ি, আজ আমাদের রক্তে রঙিন হলো রাজধানীর রাস্তাঘাট,” বললেন আহত এক শিক্ষক, চোখে জল, কণ্ঠে প্রতিবাদের আগুন।