১১:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বাইরে কোন তদন্ত হয় নাই। প্রতিটি অভিযোগের মন্তব্য করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে

মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের অফিসে গোপন বেডরুমের সন্ধান

রাজধানীর মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুল হকের অফিসে গোপন বেডরুমের সন্ধান পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত উক্ত প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ আক্তারুজ্জামান নিজেও বিষয়টি জানেন না বলে নিশ্চিত করেছেন টাইমস অব ক্যাম্পাসকে। শুধু গোপন বেডরুম নয়, অধ্যক্ষ আমিনুল হকের বিরুদ্ধে রয়েছে আরও সব গুরুতর অভিযোগ।

জানা যায়, বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে (মোহাম্মদপুর-আদাবর ও শের-ই-বাংলানগরের একাংশ) আওয়ামীলীগ মনোনীত বহুল আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী এ্যাড জাহাঙ্গীর কবির নানকের পক্ষ থেকে তার অত্যন্ত আস্থাভাজন অধ্যক্ষ আমিনুল হক মনোনয়নপত্র উত্তোলন এবং নির্বাচন কমিশনে দাখিল করেন। শুধু তাই নয়, একজন অধ্যক্ষ হয়েও তিনি সরাসরি নানকের আশির্বাদপুষ্ট হয়ে জোরেশোরেই নানকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালায়।

নানকের এপিএস মাসুদুর রহমান বিপ্লবের সাথে লেনদেনের সখ্যতা গড়ে তুলে এই অধ্যক্ষ আমিনুল হক পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া, অনিয়ম, দূর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্যে, নীতিমালা বহির্ভূত কাজ, স্বজনপ্রীতি, হুমকি, শোকজ, বাধ্যতামূলক অব্যাহতি,জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করা, কর্মচারী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চাপে রাখা, কেনাকাটায় অসচ্ছতা এবং প্রতিষ্ঠানের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা, নানকের নির্বাচনি কাজে কলেজের গাড়ী ব্যবহার, ৪০%-৫০% ভোট আদায়ে মোহাম্মদপুরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বাধ্যকরা, স্টেট কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে সহায়তা সহ একক আধিপত্য জিন্দা রাখতে চরম স্বেচ্ছাচারিতায় রামরাজত্ব কায়েম করার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাবার পরেও বহাল তবিয়তে অধ্যক্ষ আমিনুল হক।

কে এই অধ্যক্ষ আমিনুল হক! অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আমিনুল হক। তার বিরুদ্ধে এসব লিখিত গুরুতর অভিযোগ দেয়ার পরেও ব্যবস্থা নিতে বিলম্বের অভিযোগউঠেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। সচেতন অভিভাবক মহলে প্রশ্ন উঠেছে- অধ্যক্ষ আমিনুল হকের খুঁটির জোর কোথায়! এখন তো নানক নেই! কিন্তু, অধ্যক্ষ আমিনুল হক বহাল তবিয়তেই নানকের সাথে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করে তার নির্দেশ মোতাবেক রামরাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন দাপটের সাথেই।

সম্প্রতি, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সালামের সাথে অধ্যক্ষ আমিনুল হকের টুপি পড়া একটা ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছে। একজন লিখেছে- নানকের আশির্বাদপুষ্ট নারীলোভী মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের প্রিন্সিপাল এখন টুপি মাথায় পড়ে বিএনপির পীরবাবা।

এদিকে, অনুসন্ধানে জানা যায়, মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের এক বিএনপি নেতা অধ্যাপক। তিনি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আওয়ামীলীগের পর অধ্যক্ষ আমিনুল হককে শেল্টার দিয়ে যাচ্ছেন। মজার বিষয় হচ্ছে- আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে সেই বিএনপি নেতা অধ্যাপককে অর্থের বিনিময়ে শেল্টার দিয়েছেন নানকের এপিএস বিপ্লব ও অধ্যক্ষ আমিনুল হক। এখানেই শেষ নয়- সেই বিএনপি নেতার নিয়োগই অবৈধ ছিলো বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। মাস্টার্স পাশ না করেই সেই বিএনপি নেতা মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগপত্র বাগিয়ে এনেছেন। এই বিএনপি নেতা অধ্যাপক ও অধ্যক্ষ আমিনুল হকের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে, নানকের এপিএস মাসুদুর রহমান বিপ্লব বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মোহাম্মদপুরের আল্লাহ করিম মসজিদ থেকে ময়ূর ভিলার দিকে ছাত্র-জনতাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে এগিয়ে যায়। বিপ্লবের ছোঁড়া গুলিতে ২ ছাত্র নিহত হয় এবং আহত হয় ২৫-৩০ জন। বর্তমানে বিপ্লবের বিরুদ্ধে মামলা চলমান। বিপ্লবের বিপুল পরিমাণ সম্পদের খোঁজও পেয়েছে দুদক। বিপ্লব এতো সম্পদ করলো কিভাবে! অনুসন্ধানে জানা যায়, মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুল হক নিয়োগ-টেন্ডার, বিভিন্ন জায়গা জমি সংক্রান্ত মামলা, দখল এবং তদবিরের জন্য ক্লায়েন্ট সাপ্লাই দিয়ে নানকের একান্ত আস্থাভাজন ওয়ানম্যান হিসেবে নিজেকে সফলভাবে প্রমাণ করেন। বিপ্লবের বিরুদ্ধে যেসব সম্পদের হিসাব খুঁজছে দুদক তার বেশীরভাগই লেনদেন হয়েছে মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের অফিসের সেই গোপন বেডরুমে। আর সে জন্যই মোহাম্মদপুর-আদাবর-শেরে বাংলানগর থানাধীন আওয়ামীলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, যুবলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী থাকার পরেও ঢাকা-১৩ আসনে নানকের মনোনয়ন উত্তোলন এবং নির্বাচন কমিশনে দাখিল করার দায়িত্ব পান অধ্যক্ষ আমিনুল হক। অধ্যক্ষ নিজেও গড়ে তুলেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদের পাহাড়।

নানকের আশির্বাদপুষ্ট হয়েই অধ্যক্ষ আমিনুল জ্ঞাত আয় বহির্ভূত দূর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ পন্থায় রাজধানীতে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের ৪ টি ফ্লাট করেছেন যার সন্ধান মিলেছে আমাদের অনুসন্ধানে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নানকের নির্দেশে মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদেরকে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে বাধা দেন এবং কলেজ হোস্টেলের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া যায় অধ্যক্ষ আমিনুল হকের বিরুদ্ধে। তারপরও কিছু দেশপ্রেমিক শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নেন। কিন্তু, ১০ই আগস্ট আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে কোন প্রকার আলাপ-আলোচনা না করেই আন্দোলনকারীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী সমর্থিত শিক্ষার্থীদেরকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রী সাজিয়ে নিজের আখের গোছান অধ্যক্ষ আমিনুল হক।

এদিকে, অধ্যক্ষ আমিনুল হকের নিয়োগ নিয়েও চাঞ্চল্যকর ও চমকপ্রদ তথ্য উঠে আসে আমাদের অনুসন্ধানে। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রাথমিক ১ম পর্যায়ের তালিকায় আমিনুল হকের নাম না থাকায় অকৃতকার্য হন বলে জানা যায়। কিন্তু, আওয়ামীলীগ নেতা ও ঢাকা-১৩ আসনের সাংসদ এ্যাড জাহাঙ্গীর কবির নানকের এপিএস মাসুদুর রহমান বিপ্লব ১ম প্রকাশিত তালিকায় আমিনুল হকের নাম না থাকায় ফলাফল ভুল হয়েছে জানিয়ে একই দিনে এবং তাৎক্ষণিক ২য় ফলাফলের তালিকা প্রকাশ করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়- প্রকাশিত ১ম ফলাফলের তালিকায় হাফিজ নামে একজন অধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হন। কিন্তু, চতুর আমিনুল হক বিপ্লবের সাথে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অধ্যক্ষ পদে ২য় ফলাফলে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র বাগিয়ে নেন।

এদিকে, অধ্যক্ষ পদে নিয়োগদানের পরপরই অত্র কলেজজুড়ে রাম রাজত্ব প্রতিষ্ঠায় এহেন কোন অনিয়ম-কুকর্ম আমিনুল হক বাদ রাখেনি। অভিযোগপত্রে জানা যায়, চর্তুথ শ্রেণীর নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী আনোয়ার ও কেরামতকে অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে টাইপকৃত পদত্যাগপত্রে সুকৌশলে-জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে পেটে লাথি দিয়ে একই দিনে, একই সময়ে দুজনকে কলেজ থেকে বের করে দেন।
নিয়োগকৃত দুজন কর্মচারীকে বের করে দিয়ে আবার তাদের একজনকে মাস্টাররোলে অস্থায়ী হিসেবে নিয়োগপত্র বিহীন দায়িত্ব পালন করতে বলেন। বর্তমানে আনোয়ার এখনও প্রধান ফটকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

এসকল অভিযোগের সত্যতা জানতে কলেজে গিয়েও অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আমিনুল হকের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। এমনকি, মুঠোফোনে কল দিলেও সাড়া মেলেনি। প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা প্রহরী বাবুল বলেন, শনিবার ভোর ৬ টায় কলেজের গাড়ি বের হয়েছে। কোথায় গেছে তার জানা নাই।

মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের সভাপতি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ আক্তারুজ্জামান টাইমস অব ক্যাম্পাস-কে বলেন, শুনতে পাচ্ছি- তদন্তের অগ্রগ্রতি অনেকখানি এগিয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিআইএ’র যৌথভাবে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত জানা যাবে এবং বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অধ্যক্ষ আমিনুল হকের অফিসে বেডরুম রয়েছে এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, বেডরুম থাকার বিষয়টি তিনি অবগত নন।

অভিযোগপত্রের তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিদর্শক তদন্তকারী কর্মকর্তা একেএম রাশিদুল হাসান টাইমস অব ক্যাম্পাস-কে বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সেটি কি পর্যায়ে আছে তা জানা নেই। তবে, আগামীকাল (রোববার) অফিসে গিয়ে জেনে জানাতে পারবেন বলে তিনি জানান। প্রতিষ্ঠান প্রধানের অফিসে বেডরুম ও নির্বাচনী মনোনয়ন সংগ্রহ-নির্বাচন কমিশনে দাখিলের বিষয়ে তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বাইরে কোন তদন্ত হয় নাই। প্রতিটি অভিযোগের মন্তব্য করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

এদিকে, চাকরিচ্যুত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী আনোয়ার ও কেরামত তাদের চাকুরি ফেরৎ এবং অধ্যক্ষ আমিনুল হকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ড. ইউনুস সহ সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে আইনি নোটিশ

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বাইরে কোন তদন্ত হয় নাই। প্রতিটি অভিযোগের মন্তব্য করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে

মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের অফিসে গোপন বেডরুমের সন্ধান

সময় ০৬:৫৮:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীর মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুল হকের অফিসে গোপন বেডরুমের সন্ধান পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত উক্ত প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ আক্তারুজ্জামান নিজেও বিষয়টি জানেন না বলে নিশ্চিত করেছেন টাইমস অব ক্যাম্পাসকে। শুধু গোপন বেডরুম নয়, অধ্যক্ষ আমিনুল হকের বিরুদ্ধে রয়েছে আরও সব গুরুতর অভিযোগ।

জানা যায়, বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে (মোহাম্মদপুর-আদাবর ও শের-ই-বাংলানগরের একাংশ) আওয়ামীলীগ মনোনীত বহুল আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী এ্যাড জাহাঙ্গীর কবির নানকের পক্ষ থেকে তার অত্যন্ত আস্থাভাজন অধ্যক্ষ আমিনুল হক মনোনয়নপত্র উত্তোলন এবং নির্বাচন কমিশনে দাখিল করেন। শুধু তাই নয়, একজন অধ্যক্ষ হয়েও তিনি সরাসরি নানকের আশির্বাদপুষ্ট হয়ে জোরেশোরেই নানকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালায়।

নানকের এপিএস মাসুদুর রহমান বিপ্লবের সাথে লেনদেনের সখ্যতা গড়ে তুলে এই অধ্যক্ষ আমিনুল হক পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া, অনিয়ম, দূর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্যে, নীতিমালা বহির্ভূত কাজ, স্বজনপ্রীতি, হুমকি, শোকজ, বাধ্যতামূলক অব্যাহতি,জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করা, কর্মচারী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চাপে রাখা, কেনাকাটায় অসচ্ছতা এবং প্রতিষ্ঠানের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা, নানকের নির্বাচনি কাজে কলেজের গাড়ী ব্যবহার, ৪০%-৫০% ভোট আদায়ে মোহাম্মদপুরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বাধ্যকরা, স্টেট কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগে সহায়তা সহ একক আধিপত্য জিন্দা রাখতে চরম স্বেচ্ছাচারিতায় রামরাজত্ব কায়েম করার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাবার পরেও বহাল তবিয়তে অধ্যক্ষ আমিনুল হক।

কে এই অধ্যক্ষ আমিনুল হক! অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীর মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আমিনুল হক। তার বিরুদ্ধে এসব লিখিত গুরুতর অভিযোগ দেয়ার পরেও ব্যবস্থা নিতে বিলম্বের অভিযোগউঠেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। সচেতন অভিভাবক মহলে প্রশ্ন উঠেছে- অধ্যক্ষ আমিনুল হকের খুঁটির জোর কোথায়! এখন তো নানক নেই! কিন্তু, অধ্যক্ষ আমিনুল হক বহাল তবিয়তেই নানকের সাথে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করে তার নির্দেশ মোতাবেক রামরাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন দাপটের সাথেই।

সম্প্রতি, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সালামের সাথে অধ্যক্ষ আমিনুল হকের টুপি পড়া একটা ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছে। একজন লিখেছে- নানকের আশির্বাদপুষ্ট নারীলোভী মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের প্রিন্সিপাল এখন টুপি মাথায় পড়ে বিএনপির পীরবাবা।

এদিকে, অনুসন্ধানে জানা যায়, মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের এক বিএনপি নেতা অধ্যাপক। তিনি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আওয়ামীলীগের পর অধ্যক্ষ আমিনুল হককে শেল্টার দিয়ে যাচ্ছেন। মজার বিষয় হচ্ছে- আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে সেই বিএনপি নেতা অধ্যাপককে অর্থের বিনিময়ে শেল্টার দিয়েছেন নানকের এপিএস বিপ্লব ও অধ্যক্ষ আমিনুল হক। এখানেই শেষ নয়- সেই বিএনপি নেতার নিয়োগই অবৈধ ছিলো বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। মাস্টার্স পাশ না করেই সেই বিএনপি নেতা মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগপত্র বাগিয়ে এনেছেন। এই বিএনপি নেতা অধ্যাপক ও অধ্যক্ষ আমিনুল হকের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে, নানকের এপিএস মাসুদুর রহমান বিপ্লব বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মোহাম্মদপুরের আল্লাহ করিম মসজিদ থেকে ময়ূর ভিলার দিকে ছাত্র-জনতাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে এগিয়ে যায়। বিপ্লবের ছোঁড়া গুলিতে ২ ছাত্র নিহত হয় এবং আহত হয় ২৫-৩০ জন। বর্তমানে বিপ্লবের বিরুদ্ধে মামলা চলমান। বিপ্লবের বিপুল পরিমাণ সম্পদের খোঁজও পেয়েছে দুদক। বিপ্লব এতো সম্পদ করলো কিভাবে! অনুসন্ধানে জানা যায়, মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুল হক নিয়োগ-টেন্ডার, বিভিন্ন জায়গা জমি সংক্রান্ত মামলা, দখল এবং তদবিরের জন্য ক্লায়েন্ট সাপ্লাই দিয়ে নানকের একান্ত আস্থাভাজন ওয়ানম্যান হিসেবে নিজেকে সফলভাবে প্রমাণ করেন। বিপ্লবের বিরুদ্ধে যেসব সম্পদের হিসাব খুঁজছে দুদক তার বেশীরভাগই লেনদেন হয়েছে মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের অফিসের সেই গোপন বেডরুমে। আর সে জন্যই মোহাম্মদপুর-আদাবর-শেরে বাংলানগর থানাধীন আওয়ামীলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, যুবলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী থাকার পরেও ঢাকা-১৩ আসনে নানকের মনোনয়ন উত্তোলন এবং নির্বাচন কমিশনে দাখিল করার দায়িত্ব পান অধ্যক্ষ আমিনুল হক। অধ্যক্ষ নিজেও গড়ে তুলেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদের পাহাড়।

নানকের আশির্বাদপুষ্ট হয়েই অধ্যক্ষ আমিনুল জ্ঞাত আয় বহির্ভূত দূর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ পন্থায় রাজধানীতে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের ৪ টি ফ্লাট করেছেন যার সন্ধান মিলেছে আমাদের অনুসন্ধানে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নানকের নির্দেশে মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদেরকে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে বাধা দেন এবং কলেজ হোস্টেলের প্রধান ফটক তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ পাওয়া যায় অধ্যক্ষ আমিনুল হকের বিরুদ্ধে। তারপরও কিছু দেশপ্রেমিক শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নেন। কিন্তু, ১০ই আগস্ট আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে কোন প্রকার আলাপ-আলোচনা না করেই আন্দোলনকারীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী সমর্থিত শিক্ষার্থীদেরকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রী সাজিয়ে নিজের আখের গোছান অধ্যক্ষ আমিনুল হক।

এদিকে, অধ্যক্ষ আমিনুল হকের নিয়োগ নিয়েও চাঞ্চল্যকর ও চমকপ্রদ তথ্য উঠে আসে আমাদের অনুসন্ধানে। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রাথমিক ১ম পর্যায়ের তালিকায় আমিনুল হকের নাম না থাকায় অকৃতকার্য হন বলে জানা যায়। কিন্তু, আওয়ামীলীগ নেতা ও ঢাকা-১৩ আসনের সাংসদ এ্যাড জাহাঙ্গীর কবির নানকের এপিএস মাসুদুর রহমান বিপ্লব ১ম প্রকাশিত তালিকায় আমিনুল হকের নাম না থাকায় ফলাফল ভুল হয়েছে জানিয়ে একই দিনে এবং তাৎক্ষণিক ২য় ফলাফলের তালিকা প্রকাশ করা হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়- প্রকাশিত ১ম ফলাফলের তালিকায় হাফিজ নামে একজন অধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হন। কিন্তু, চতুর আমিনুল হক বিপ্লবের সাথে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অধ্যক্ষ পদে ২য় ফলাফলে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র বাগিয়ে নেন।

এদিকে, অধ্যক্ষ পদে নিয়োগদানের পরপরই অত্র কলেজজুড়ে রাম রাজত্ব প্রতিষ্ঠায় এহেন কোন অনিয়ম-কুকর্ম আমিনুল হক বাদ রাখেনি। অভিযোগপত্রে জানা যায়, চর্তুথ শ্রেণীর নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী আনোয়ার ও কেরামতকে অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে টাইপকৃত পদত্যাগপত্রে সুকৌশলে-জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে পেটে লাথি দিয়ে একই দিনে, একই সময়ে দুজনকে কলেজ থেকে বের করে দেন।
নিয়োগকৃত দুজন কর্মচারীকে বের করে দিয়ে আবার তাদের একজনকে মাস্টাররোলে অস্থায়ী হিসেবে নিয়োগপত্র বিহীন দায়িত্ব পালন করতে বলেন। বর্তমানে আনোয়ার এখনও প্রধান ফটকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

এসকল অভিযোগের সত্যতা জানতে কলেজে গিয়েও অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আমিনুল হকের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। এমনকি, মুঠোফোনে কল দিলেও সাড়া মেলেনি। প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা প্রহরী বাবুল বলেন, শনিবার ভোর ৬ টায় কলেজের গাড়ি বের হয়েছে। কোথায় গেছে তার জানা নাই।

মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের সভাপতি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ আক্তারুজ্জামান টাইমস অব ক্যাম্পাস-কে বলেন, শুনতে পাচ্ছি- তদন্তের অগ্রগ্রতি অনেকখানি এগিয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ডিআইএ’র যৌথভাবে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত জানা যাবে এবং বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অধ্যক্ষ আমিনুল হকের অফিসে বেডরুম রয়েছে এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, বেডরুম থাকার বিষয়টি তিনি অবগত নন।

অভিযোগপত্রের তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিদর্শক তদন্তকারী কর্মকর্তা একেএম রাশিদুল হাসান টাইমস অব ক্যাম্পাস-কে বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সেটি কি পর্যায়ে আছে তা জানা নেই। তবে, আগামীকাল (রোববার) অফিসে গিয়ে জেনে জানাতে পারবেন বলে তিনি জানান। প্রতিষ্ঠান প্রধানের অফিসে বেডরুম ও নির্বাচনী মনোনয়ন সংগ্রহ-নির্বাচন কমিশনে দাখিলের বিষয়ে তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বাইরে কোন তদন্ত হয় নাই। প্রতিটি অভিযোগের মন্তব্য করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

এদিকে, চাকরিচ্যুত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী আনোয়ার ও কেরামত তাদের চাকুরি ফেরৎ এবং অধ্যক্ষ আমিনুল হকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।