চলতি মাসেই ২০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা দেবে বিএনপি
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি এবার একক প্রার্থী চূড়ান্তের পথে। চলতি অক্টোবর মাসের মধ্যেই দলটি প্রায় ২০০ আসনে একক প্রার্থীকে “গ্রিন সিগন্যাল” দিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “মনোনয়ন প্রক্রিয়া প্রায় শেষ। নির্বাচনি প্রস্তুতি নিতে যাতে প্রার্থীরা সময় পান, সেই লক্ষ্যেই দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।”
সালাহউদ্দিন আরও জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নভেম্বর মাসের মধ্যেই দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট তারিখ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই সবাই জানতে পারবেন। ইনশাআল্লাহ নভেম্বরের মধ্যেই তিনি ফিরবেন।”
আরপিও সংশোধনে বিএনপির আপত্তি:
সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনী নিয়ে বিএনপির আপত্তি রয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচনি সংস্কারের জন্য অনেক প্রস্তাব দিয়েছিলাম, যেগুলোর অনেকগুলিতে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য ছিল। কিন্তু বর্তমান খসড়ায় এমন কিছু ধারা যোগ করা হয়েছে, যেখানে জোটবদ্ধ দলগুলো নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন করতে বাধ্য হবে — এতে বিএনপির সম্মতি নেই।”
তার মতে, “এভাবে ছোট রাজনৈতিক দলগুলো নিরুৎসাহিত হবে। নির্বাচনের স্বার্থে এবং সুষ্ঠু রাজনীতির স্বার্থে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।”
প্রার্থীতা ও জোট নিয়ে ইঙ্গিত:
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনে অংশ নেবেন—এ কথা নিশ্চিত করে সালাহউদ্দিন বলেন, “তিনি নিজেই সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন নির্বাচনে অংশ নেবেন। আসন পরে নির্ধারিত হবে, তবে তিনি দেশের যেকোনো আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।”
চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচন করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দেশনেত্রী শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন। আমরা চাই তিনি নির্বাচনে অংশ নিন।”
জোট গঠনের প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিএনপি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করছে। “শেষ পর্যন্ত জোট কী আকার নেবে, সেটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সময়ই বলে দেবে।”
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। জোটবদ্ধ হব কি না, সেটা মাঠের রাজনীতি ঠিক করবে।”
ঐকমত্যের জাতীয় সরকার:
জাতীয় সরকার প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা গণতন্ত্রপন্থি সব শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার গঠনের অঙ্গীকার করছি। এটি প্রচলিত অর্থে ‘জাতীয় সরকার’ নয়, বরং যুগপৎ আন্দোলনের অংশীদারদের নিয়ে একটি যৌথ সরকার ব্যবস্থা।”
আসন ছাড় ও শরিকদের গুরুত্ব:
তিনি বলেন, “যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত মনোনয়ন নির্ধারণ করা হবে। কেউ মনোনয়ন না পেলেও তাদের অন্যভাবে মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে।”
এছাড়া তিনি জানান, বিএনপি ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে, এবং শরিক দলগুলোকে সরকার গঠনেও যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশন ও সরকার প্রসঙ্গে মন্তব্য
সালাহউদ্দিন বলেন, “নির্বাচনের আগে সরকার যেন তত্ত্বাবধায়কের মতো আচরণ করে, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। কিছু উপদেষ্টার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে জানানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্র উপদেষ্টারা যদি নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হবে।”
রাজনীতিতে পারস্পরিক মন্তব্য ও বিতর্ক:
এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের এক স্ট্যাটাসে জামায়াত ইস্যুতে তৈরি বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এগুলো রাজনৈতিক চর্চার অংশ। মতামত দেওয়া, জবাব দেওয়া—সবই গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্যে পড়ে।”
সারসংক্ষেপে, বিএনপির পক্ষ থেকে ২০০ আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা, তারেক রহমানের নভেম্বরের মধ্যেই দেশে ফেরা, এবং জোট ও জাতীয় সরকারের বিষয়ে নতুন বার্তা—সব মিলিয়ে দেশের রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
✪ ধ্রুব নয়ন : 









