০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ভোর ছয়টার আগেই শুরু হয় নিরাপত্তা প্রস্তুতি। ট্রাইব্যুনালের আশপাশে অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা। একই সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট—কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর ও কাকরাইল মোড়েও দেখা গেছে সেনাবাহিনী, আনসার ও অন্যান্য বাহিনীর সতর্ক টহল। শহরের বাতাসে তখনও ঘন হয়ে ছিল এক নীরব উত্তেজনা।

নিরাপত্তার চাদরে মোড়া ট্রাইব্যুনাল, সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

  • ✪ ধ্রুব নয়ন :
  • সময় ০২:৩৬:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৩ ভিউ হয়েছে

রাজধানীর পুরাতন হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজ বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকেই পরিণত হয় নিরাপত্তার এক বলয়ে। মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি আলোচিত মামলায় অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রাইব্যুনাল-১ এ হাজির করা হয়। এই উপলক্ষে ট্রাইব্যুনালের চারপাশে গড়ে তোলা হয় কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী। পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন ছিলেন আদালত প্রাঙ্গণজুড়ে।

ভোর ছয়টার আগেই শুরু হয় নিরাপত্তা প্রস্তুতি। ট্রাইব্যুনালের আশপাশে অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা। একই সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট—কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর ও কাকরাইল মোড়েও দেখা গেছে সেনাবাহিনী, আনসার ও অন্যান্য বাহিনীর সতর্ক টহল। শহরের বাতাসে তখনও ঘন হয়ে ছিল এক নীরব উত্তেজনা।

তিনটি মামলার মধ্যে দুটি মামলার অভিযোগ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও নির্যাতন সংশ্লিষ্ট। অপর মামলাটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের। তিন মামলায় সাবেক ও বর্তমান ২৫ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৩২ জন আসামির নাম রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জন বর্তমানে সেনা হেফাজতে আছেন।

গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর একটিতে ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহবুব আলম, কে. এম. আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন ও কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (বর্তমানে অবসরকালীন ছুটিতে)। এছাড়া র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম রয়েছেন সেনা হেফাজতে।

এ মামলায় র‍্যাবের সাবেক তিন মহাপরিচালকও (ডিজি) অভিযুক্ত—বেনজীর আহমেদ (পরবর্তীতে আইজিপি), এম খুরশিদ হোসেন ও মো. হারুন-অর-রশিদ। তাঁরা বর্তমানে পলাতক। একই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং র‍্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলামকেও আসামি করা হয়েছে। এদেরও অনেকে এখন পলাতক বা অবস্থান গোপন রেখেছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের অপর মামলায় আসামি করা হয়েছে শেখ হাসিনা ও তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ মোট ১৩ জনকে। তাঁদের মধ্যে ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন।

একই মামলায় আরও অভিযুক্ত রয়েছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক। পাশাপাশি সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হকও অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছেন। তাঁদের অনেকের অবস্থান এখনও অজানা, তবে কিছু সূত্র জানায়—তাঁদের কেউ কেউ দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম, মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম এবং সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রেদোয়ানুল ইসলাম ও রাফাত-বিন-আলম সেনা হেফাজতে আছেন, আর বাকি দুজন পলাতক বলে জানা গেছে।

ড. ইউনুস সহ সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে আইনি নোটিশ

ভোর ছয়টার আগেই শুরু হয় নিরাপত্তা প্রস্তুতি। ট্রাইব্যুনালের আশপাশে অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা। একই সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট—কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর ও কাকরাইল মোড়েও দেখা গেছে সেনাবাহিনী, আনসার ও অন্যান্য বাহিনীর সতর্ক টহল। শহরের বাতাসে তখনও ঘন হয়ে ছিল এক নীরব উত্তেজনা।

নিরাপত্তার চাদরে মোড়া ট্রাইব্যুনাল, সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

সময় ০২:৩৬:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

রাজধানীর পুরাতন হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজ বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকেই পরিণত হয় নিরাপত্তার এক বলয়ে। মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি আলোচিত মামলায় অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ট্রাইব্যুনাল-১ এ হাজির করা হয়। এই উপলক্ষে ট্রাইব্যুনালের চারপাশে গড়ে তোলা হয় কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী। পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন ছিলেন আদালত প্রাঙ্গণজুড়ে।

ভোর ছয়টার আগেই শুরু হয় নিরাপত্তা প্রস্তুতি। ট্রাইব্যুনালের আশপাশে অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা। একই সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট—কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর ও কাকরাইল মোড়েও দেখা গেছে সেনাবাহিনী, আনসার ও অন্যান্য বাহিনীর সতর্ক টহল। শহরের বাতাসে তখনও ঘন হয়ে ছিল এক নীরব উত্তেজনা।

তিনটি মামলার মধ্যে দুটি মামলার অভিযোগ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও নির্যাতন সংশ্লিষ্ট। অপর মামলাটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়ের। তিন মামলায় সাবেক ও বর্তমান ২৫ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৩২ জন আসামির নাম রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জন বর্তমানে সেনা হেফাজতে আছেন।

গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর একটিতে ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহবুব আলম, কে. এম. আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন ও কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (বর্তমানে অবসরকালীন ছুটিতে)। এছাড়া র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম রয়েছেন সেনা হেফাজতে।

এ মামলায় র‍্যাবের সাবেক তিন মহাপরিচালকও (ডিজি) অভিযুক্ত—বেনজীর আহমেদ (পরবর্তীতে আইজিপি), এম খুরশিদ হোসেন ও মো. হারুন-অর-রশিদ। তাঁরা বর্তমানে পলাতক। একই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং র‍্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলামকেও আসামি করা হয়েছে। এদেরও অনেকে এখন পলাতক বা অবস্থান গোপন রেখেছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত গুম ও নির্যাতনের অপর মামলায় আসামি করা হয়েছে শেখ হাসিনা ও তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ মোট ১৩ জনকে। তাঁদের মধ্যে ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন।

একই মামলায় আরও অভিযুক্ত রয়েছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক। পাশাপাশি সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হকও অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছেন। তাঁদের অনেকের অবস্থান এখনও অজানা, তবে কিছু সূত্র জানায়—তাঁদের কেউ কেউ দেশ ছেড়ে চলে গেছেন।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম, মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম, পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম এবং সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রেদোয়ানুল ইসলাম ও রাফাত-বিন-আলম সেনা হেফাজতে আছেন, আর বাকি দুজন পলাতক বলে জানা গেছে।